Saturday, June 18, 2016

মৃত্যুহীন

আমার বেশির ভাগ লেখাই আমার কল্পনা থেকে নেয়া । আমি যা কল্পনা করি তাই লিখি । আমার কল্পনাতে আমার এক প্রকার বিশ্বাস লুকিয়ে আছে । সেই বিশ্বাসের হাত ধরেই আমি লিখতে পারি অবিরাম ।
অধরা ভেবেছিল বিবাহিত জীবনে ও খুব সুখী হবে । বিবাহিত জীবনেও আমি ছিলাম প্রায় একা । ওকে খুব বেশি সময় দেয়া হতো না । সারাদিন অদ্ভুত সব চিন্তা ভাবনা আমার মাথায় ঘুরতে থাকতো । আমি সেসব নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম । বুঝতে পারতাম ও আমাকে খুব ভালোবাসে । কখনো বুঝতে দিত না ওর মনের কষ্টগুলো । কারো কষ্ট বোঝার ক্ষমতা আমি হারিয়েছি অনেক আগেই । আমার নিজের কাছে কষ্ট আর সুখের অনুভুতি একই রকম মনে হয় । কখনো দুইটার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য খুজে পাই নি । মৃত্যু সব সময়ই রহস্যজনক লেগেছে আমার । মৃত্যু মানে কি জীবনের শুরু নাকি শেষ ? কেন জানি মনে হচ্ছে খুব বেশী মৃত্যু নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি মনে হয় মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে এসেছি । অধরা আমাকে বলেছিল ও আমার জন্য হাসিমুখে মরতেও পারবে । আমি সেরকমই চাচ্ছিলাম । পরিকল্পনটা ছিল আমার । ও আমার সামনে মারা যাবে । আর আমি মৃত্যু দেখবো । খেয়াল রাখতে হবে ওর যেন কোন কষ্ট না হয় । আমি যে ওকে ভালোবাসি । ওর কষ্ট কি আমি সহ্য করতে পারি ? তাই তো রাতের খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছি আমি ।
-খেতে এসো ?
-তুমি খাবে না ?
-না আমার খিদে নেই । তুমি আমার সামনে খাও। আর আমি তোমাকে মন ভরে দেখি ।
-তাই বুঝি । তা আজ হঠ্যাৎ বউয়ের উপর এতো ভালোবাসা ?
-এমনিতেই । তোমাকে একটা কথা বলবো ?
-কথা বলবে এতে অনুমতি নেয়ার কি আছে । বলো কি বলবে ?
-তুমি কি আমার জন্য সত্যি মরতে পারবে ?
ওর মুখটা এখনো হাসিতে ভরা । সেই হাসির অর্থ আমি জানি । ওকে যে আমি ভালোবাসি । হয়তোবা খুব বেশি । ও কি জানে যে ও আর কিছুক্ষণ পর মারা যাবে ? ভালোবাসার মানুষটাই যাকে আজ নিজ হাতে মেরে ফেলবে । একজন মানুষের কাছে এর চেয়ে সুখের আর কি হতে পারে ।
আচ্ছা আমি কি পাগল হয়ে গিয়েছি ? এতে পাগলামির কি হলো ? আমার ভালোবাসার মানুষ কে আমি মারবো কাটবো যা খুশি করবো সেটা আমার ইচ্ছা । সেক্ষেত্রে তো আমাকে পাগল ভাবার কিছু নেই । আমার মস্তিষ্ক এখনো সুস্থ !
-আমার সাথে এমন করলে কেন তুমি ?
-আমি যে তোমাকে খুব ভালোবাসি ।
-তুমি একটা পাগল ।
-হয়তোবা সেটা তোমার ভালবাসায় ।
-জানো তো আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ।
-আর একটু কষ্ট করো । কিছুক্ষণ পরেই তো তুমি চলে যাবে অন্য কোথাও । আমি সেটা দেখবো ।
-তুমি কখনো সেটা দেখতে পারবে না । তুমি কখনো তোমার ইচ্ছাতে মৃত্যু দেখতে পারবে না ।
মাথাটা কেমন জানি ব্যথা করছে কথাগুলো শোনার পর থেকে । কতো ভালবাসতাম । আর আজ নিমেষেই সব শেষ । অবাক লাগছে আমার । ওর শেষ কথাগুলো কি সত্য ? নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছে না আমার । হবেই বা কেন ? আমার বিশ্বাসটাকে আজ হারিয়েছে অন্য কোন কিছুর মাঝে । বুঝতে পারছি না এই মুহূর্তে আমার কি করা উচিত । আমি কি আজ পরাজিত ? আমি কি কখনো মৃত্যু দেখতে পারবো না ? জীবনের কোন এক ভুল সিদ্ধান্ত আমায় বার বার ডাকছে । মধ্যরাত হতে আর বেশি বাকি নেই । প্রকৃতি খুব বেশী অন্ধকার হলেই হয়তোবা তলিয়ে যাবো দুর কোন অজানায় । চিরতরে ঘুমিয়ে পরবো কোন এক অন্ধকারে । যেখানে থাকবে না পাখিদের কোন কোলাহল । থাকবেনা মানুষের কোন মায়াজাল । থাকবে শুধু অসীম এক অদেখা । আমি দেখবো সেই অদেখা গুলোকে অপলক দৃষ্টিতে । হারিয়ে যাবো আমার কল্পনায় বার বার।
দড়িটার দিকে তাকিয়ে আছি আমি । খুব সাধারণ একটা দড়ি । অথচ ক্ষমতা কতোটা অসাধারণ । এটাই পারে আমাকে মৃত্যু দেখাতে । আমার গোলায় কি দড়িটা খুব মানাবে ? বুঝতে পারছি এই মুহূর্তে আমি যা করতে যাচ্ছি সেটা পাগলামি ছাড়া আর কিছু না । আমি ছাড়া বাকি সবাই হয়তোবা আমাকে ভাববে আমি পাগল , আমি উন্মাদ । অবাক লাগছে আমার । আর কিছুক্ষণ পর আমি মারা যাবো । হয়তোবা হারিয়ে যাবো গহীন কোন অন্ধকারে । আমার চারপাশে থাকবে শুধু অন্ধকার আর আমি তলিয়ে যাবো সেই অন্ধকারের আড়ালে । কেউ আমাকে খুঁজেও পাবে না ।
“ আমি শূন্যে দাড়িয়ে আছি । আমার চারপাশে রয়েছে শুধু আমার অতীতগুলো । জীবনের সমস্ত অন্যায় অবিচার ধিক্কার দিচ্ছে আমাকে । আমি যে আজ মৃত্যু দেখতে চাই । কিন্তু একি আমার মৃত্যু কোথায় ? বুঝতে পারছি আমি এখন জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা অবস্থানে অবস্থান করছি । যেখানে সময় বলে হয়তোবা কিছু নেই । তারমানে কি ? এই জীবনের শেষ কোথায় আমার ? আমি তো জানতাম জীবনের পরই মৃত্যু শুরু কিন্তু তার মাঝখানেও যে রয়েছে আরেক জীবনের বিশাল এক পর্ব । যেখানে রয়েছে শুধু অতীতের ভুলগুলো আর সেসব ভুলের অনুশোচনা ’’

No comments:

Post a Comment