আত্মহত্যা
রাত প্রায় একটা । পাশের জানালাটা এখনও খোলা । দূর আকাশের চাঁদটা এখনও জানালার পাশ দিয়ে উকি দিচ্ছে আমার দিকে । মন খারাপ করে বসে আছি আমি জানালার পাশে । আমি ভাবতাম দুরের তারাগুলো হয়তোবা কোন মায়া জাল । যে জালের মধ্যে আমার কষ্টগুলোকে আটকে রাখা যেত । এই জন্যই তো আমার কষ্ট গুলোকে লুকিয়ে রাখার জন্য আমি প্রতি রাতে তাঁরা গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি । আজ কেন জানি সব কিছু খুব অপরিচিত মনে হচ্ছে আমার । এই রুমটাই তো আমার । ওই তো দেয়ালে আমার আকা ছবি গুলো টাঙ্গানো । কবিতার ডাইরিটা এখনো আমার হাতে । তাহলে এমন মনে হচ্ছে কেন ? আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । হয়তোবা আজ বৃষ্টি হবে । এখনকার বৃষ্টি গুলো আর খুব একটা জানান দিয়ে আছে না । জানলাটা লেগে দেওয়া দরকার । কিন্তু একি জানালা তো লাগানোই ! তাহলে এতক্ষণ কি দেখলাম ? আমি কি কোন কল্পনার মধ্যে ছিলাম ?
অন্ধকার একটা ঘর । সব কিছুই কেন জানি অদ্ভুত লাগছে আজ । এতো রাতে প্রকৃতি থাকবে নিশ্চুপ । কিন্তু অদ্ভুত সব শব্দ আজ আমার কানে ভাসছে । বাহিরে কারা জানি কথা বলছে । কি বলছে কিছু বুঝা যাচ্ছে না । কেন জানি মনে হচ্ছে আমার পাশে কেউ একজন আছে । মাথাটা ঘুরালাম আমি । নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না আমার । এ আমি কি দেখছি ? আমার পাশে কেউ একজন শুয়ে আছে । দরজার দিকে তাকালাম । না দরজাটা তো খোলা নেই । তাহলে আমি কি ভুল দেখেছি ? না পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে । কেউ একজন শুয়ে আছে । আমি আম্মুকে ডাকতে লাগলাম । কিন্তু একি আমার গলার স্বর এতো ক্ষীণ কেন আজ ? এই মুহূর্তে মাথা কাজ করছে না আমার । ছেলেটা কে ? ঘুমিয়ে আছে কেন ? এরকম একটা পরিবেশে তো আমার খুব ভয় পাবার কথা । কিন্তু আজ আমি আর ভয় পাচ্ছি না । অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে আমার মস্তিষ্ক । ঘরটা তো অন্ধকার । তাহলে আমি ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছি কিভাবে ? কে আমি ? কি হচ্ছে এসব ? সব কিছুই এতো এলো মেলো কেন আজ ? বাহিরে কে কথা বলছে ?
আমি বাইরে বের হলাম। এতো রাতে কেউ একজন আমার দরজায় দাড়িয়ে । আমাকে নাকি নিতে এসেছে । অন্য সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে । এ আমি কোথায় এসে পরেছি । এটা তো আমার পরিচিত কোন জায়গা না । এবার আমি সত্যি খুব ভয় পাচ্ছি । আমি দৌড়াতে লাগলাম । জীবনের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমি দৌড়চ্ছি । । ছায়া মানব গুলো পিছন থেকে আমাকে তাড়া করছে । কারো মুখ দেখা যাচ্ছে না । কেউ কি বলতে পারবে রাস্তাটা কোথায় শেষ হয়েছে ? আমাকে লোকালয়ে যেতে হবে । আমাকে যে বাচতে হবে । আরবিকে যে বলতে হবে আমার না বলা কথা গুলো । ও যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আমি পিছনে ফিরে তাকালাম । ছায়া মানব গুলো এখনো আমার পিছনে । আমি আর দৌড়াতে পারছি না । মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার পায়ে শিকল বেধে দিয়েছে । এইতো সামনে আমার ঘর দেখা যাচ্ছে ।
আমি ঘরের মধ্যে দাড়িয়ে আছি । তারমানে কি রাস্তাটা চক্রকার ছিল ? রাতের ঘটনা গুলো মনে করার চেষ্টা করতে লাগলাম । কি করেছিলাম আমি ? বিছানায় শুয়ে থাকা ছেলেটার দিকে তাকালাম । ওর হাতের কব্জিতে কাটা কেন ? তাজা রক্তগুলো এখনো পরছে । তার মানে কি আমি ? সব মনে পরলো আমার । জীবনের শেষ ভুলটা আমি করেছি । আয়নার সামনে দাঁড়ালাম । নিজেকে দেখতে লাগলাম । একি আমার মুখ দেখা যাচ্ছে না কেন ? ছেলেটাকে দেখতে লাগলাম খুব কাছে থেকে । রক্ত ভেজা বিছানার উপর যে ছেলেটা শুয়ে আছে সেই ছেলেটা আর অন্য কেউ না । শেষ বারের মতো আমি অবাক হচ্ছি !
অন্ধকার একটা ঘর । সব কিছুই কেন জানি অদ্ভুত লাগছে আজ । এতো রাতে প্রকৃতি থাকবে নিশ্চুপ । কিন্তু অদ্ভুত সব শব্দ আজ আমার কানে ভাসছে । বাহিরে কারা জানি কথা বলছে । কি বলছে কিছু বুঝা যাচ্ছে না । কেন জানি মনে হচ্ছে আমার পাশে কেউ একজন আছে । মাথাটা ঘুরালাম আমি । নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না আমার । এ আমি কি দেখছি ? আমার পাশে কেউ একজন শুয়ে আছে । দরজার দিকে তাকালাম । না দরজাটা তো খোলা নেই । তাহলে আমি কি ভুল দেখেছি ? না পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে । কেউ একজন শুয়ে আছে । আমি আম্মুকে ডাকতে লাগলাম । কিন্তু একি আমার গলার স্বর এতো ক্ষীণ কেন আজ ? এই মুহূর্তে মাথা কাজ করছে না আমার । ছেলেটা কে ? ঘুমিয়ে আছে কেন ? এরকম একটা পরিবেশে তো আমার খুব ভয় পাবার কথা । কিন্তু আজ আমি আর ভয় পাচ্ছি না । অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে আমার মস্তিষ্ক । ঘরটা তো অন্ধকার । তাহলে আমি ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছি কিভাবে ? কে আমি ? কি হচ্ছে এসব ? সব কিছুই এতো এলো মেলো কেন আজ ? বাহিরে কে কথা বলছে ?
আমি বাইরে বের হলাম। এতো রাতে কেউ একজন আমার দরজায় দাড়িয়ে । আমাকে নাকি নিতে এসেছে । অন্য সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে । এ আমি কোথায় এসে পরেছি । এটা তো আমার পরিচিত কোন জায়গা না । এবার আমি সত্যি খুব ভয় পাচ্ছি । আমি দৌড়াতে লাগলাম । জীবনের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমি দৌড়চ্ছি । । ছায়া মানব গুলো পিছন থেকে আমাকে তাড়া করছে । কারো মুখ দেখা যাচ্ছে না । কেউ কি বলতে পারবে রাস্তাটা কোথায় শেষ হয়েছে ? আমাকে লোকালয়ে যেতে হবে । আমাকে যে বাচতে হবে । আরবিকে যে বলতে হবে আমার না বলা কথা গুলো । ও যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আমি পিছনে ফিরে তাকালাম । ছায়া মানব গুলো এখনো আমার পিছনে । আমি আর দৌড়াতে পারছি না । মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার পায়ে শিকল বেধে দিয়েছে । এইতো সামনে আমার ঘর দেখা যাচ্ছে ।
আমি ঘরের মধ্যে দাড়িয়ে আছি । তারমানে কি রাস্তাটা চক্রকার ছিল ? রাতের ঘটনা গুলো মনে করার চেষ্টা করতে লাগলাম । কি করেছিলাম আমি ? বিছানায় শুয়ে থাকা ছেলেটার দিকে তাকালাম । ওর হাতের কব্জিতে কাটা কেন ? তাজা রক্তগুলো এখনো পরছে । তার মানে কি আমি ? সব মনে পরলো আমার । জীবনের শেষ ভুলটা আমি করেছি । আয়নার সামনে দাঁড়ালাম । নিজেকে দেখতে লাগলাম । একি আমার মুখ দেখা যাচ্ছে না কেন ? ছেলেটাকে দেখতে লাগলাম খুব কাছে থেকে । রক্ত ভেজা বিছানার উপর যে ছেলেটা শুয়ে আছে সেই ছেলেটা আর অন্য কেউ না । শেষ বারের মতো আমি অবাক হচ্ছি !
হারিয়ে যাওয়া রিমি
আজকের রাতটা অন্ধকার । এই অন্ধকারে নিজের শরীরও নিজের কাছ থেকে পালিয়ে থাকে । সন্ধ্যা থেকেই অঝরে বৃষ্টি পড়ছে । আজ রাতেই আমি সম্ভবত মারা যাবো ! কোন এক শুভ অথবা অশুভ শক্তি সেটা আমাকে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে । আমি সেটা নিয়ে ভাবছি না । আমি ভাবছি রিমির কথা । ও কখন আসবে ? আমি যে একটু ঘুমবো ওর কোলে মাথা রেখে । কতো রাত ঘুমাই না আমি !
.
রিমির আসার কথা ছিল । আমি জানি ও আর আসবে না । আমাকে আর কখনো বলবে না ভালোবাসি ! আমার কেন জানি দুশ্চিন্তা হচ্ছে । অবশ্য এই চিন্তার জন্যই মনের মধ্যে আলাদা এক প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে । কেননা আমি যা ভাবি তা কখনো হয় না । অনেকটা বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মতো । আমার ফোন বাজতে লাগলো । আমি ফোন রিসিভ করলাম ।
.
-হ্যালো
-হ্যালো । রিমি কোথায় তুমি ?
-আমি অচেনা কোথাও এসে পরেছি । তুমি কি এখানে আসতে পারবে ?
-ঠিকানা না বললে আমি কিভাবে যাবো ?
-আমি সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি । তুমি আসতে পারবে কিনা বলো ?
-পারবো ।
-জায়গাটা কিন্তু খুব রহস্যে ঘেরা ।
-আমার তাতে কোন অসুবিধা নেই ।
.
কোন রহস্য খুঁজে বের করার ইচ্ছা আমার কখনোই হয় নি । জগতের সব কিছুতেই আছে এক নিখুঁত রহস্য । অনেক হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকে এক রহস্য আবার কন্নার পিছনেও লুকিয়ে থাকে রহস্য । আমার তো মনে হয় আমরা সবাই রহস্যের এক মায়াজালেই আবদ্ধ !
.
আমি বের হলাম । এতো বৃষ্টি যে বাহিরে আমি ব্যতীত অন্য কোন প্রাণী আর দ্বিতীয়টি চোখে পড়লো না । কি করবো কিছুই বুঝতেছি না । রিমিকেও ফোন দিচ্ছি । মনে হচ্ছে না ওপাশে কেউ আছে । থাকলেও হয়তোবা সে আর আমার সাথে কথা বলতে চায় না । আমি সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম । ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । সেই আলোতে শরীরের সব কটি শিরা-উপশিরা আমি উপলব্ধি করতে পারি । আমার রক্ত সঞ্চালন কি থেমে গিয়েছে ? এই মুহূর্তে নিজেকে কেন জানি অদ্ভুত মনে হচ্ছে আমার । কেন জানি মনে হচ্ছে এই আমিটা আমি না । হয়তোবা অন্য কেউ । আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । যা পেলাম তা হলো বিশাল অন্ধকার । কিছুক্ষণ আগের আকাশ ফাটা আলোর ঝলকানিটাও এখন চোখে পরে না । আমি ডাকতে লাগলাম । রিমি তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
এইতো আমি এখানে । আমি আরেক বার চমকিয়ে উঠি । কোথায় তুমি রিমি ? এই যে তোমার পাশে । অন্ধকারে পাশ ফিরি আমি । কোথাও কিছু চোখে পরে না !
.
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমি কোন এক ঘোরের মধ্যে বাস করছি । হয়তোবা এটা কোন দুঃস্বপ্ন । কিছুক্ষণ পরেই আমি জেগে উঠবো । আর এক ঝলক হাসি দিয়ে বলবো জানো রিমি স্বপ্নটা কি ভয়ংকরই না ছিল । হঠাৎ এক দমকা হাওয়া বয়ে যেতে লাগলো । অযুত লক্ষ নিযুত কটি স্বপ্ন আমাকে ধিক্কার দিতে লাগলো । কে তুমি কে তুমি ? এই অন্ধকার জগতে কিভাবে এলে ? মুহূর্তেই আমি অসহায় হয়ে পরি । চিৎকারে আমার কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম । কোথায় রিমি ? আমি আবার ডাকতে থাকি। তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
চারিদিক শূন্যতা বাড়তে থাকে । আমি আর সামনে যাওয়ার সাহস পাই না । আমি পিছনে ফিরে আসি । অদূরে আলো দেখা যায় । জীবনের কতো প্রতীক্ষিত আলো ! বৃষ্টির তেজ এখন কমেছে । আগের সেই দমকা হাওয়াটা আর গায়ে লাগছে না । সামনে কতো মানুষ । আমি এগিয়ে চলি । সবাই কি জানি দেখছে । ওইতো কিছু পরিচিত মানুষ ! কিন্তু ওভাবে কি দেখে ? ভিড়ের মধ্যে আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । কারো স্পর্শই আমাকে আর ছুঁয়ে যায় না । মুহূর্তেই আমি অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি । তাহলে এই আমিটা কে ?
.
রিমির আসার কথা ছিল । আমি জানি ও আর আসবে না । আমাকে আর কখনো বলবে না ভালোবাসি ! আমার কেন জানি দুশ্চিন্তা হচ্ছে । অবশ্য এই চিন্তার জন্যই মনের মধ্যে আলাদা এক প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে । কেননা আমি যা ভাবি তা কখনো হয় না । অনেকটা বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মতো । আমার ফোন বাজতে লাগলো । আমি ফোন রিসিভ করলাম ।
.
-হ্যালো
-হ্যালো । রিমি কোথায় তুমি ?
-আমি অচেনা কোথাও এসে পরেছি । তুমি কি এখানে আসতে পারবে ?
-ঠিকানা না বললে আমি কিভাবে যাবো ?
-আমি সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি । তুমি আসতে পারবে কিনা বলো ?
-পারবো ।
-জায়গাটা কিন্তু খুব রহস্যে ঘেরা ।
-আমার তাতে কোন অসুবিধা নেই ।
.
কোন রহস্য খুঁজে বের করার ইচ্ছা আমার কখনোই হয় নি । জগতের সব কিছুতেই আছে এক নিখুঁত রহস্য । অনেক হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকে এক রহস্য আবার কন্নার পিছনেও লুকিয়ে থাকে রহস্য । আমার তো মনে হয় আমরা সবাই রহস্যের এক মায়াজালেই আবদ্ধ !
.
আমি বের হলাম । এতো বৃষ্টি যে বাহিরে আমি ব্যতীত অন্য কোন প্রাণী আর দ্বিতীয়টি চোখে পড়লো না । কি করবো কিছুই বুঝতেছি না । রিমিকেও ফোন দিচ্ছি । মনে হচ্ছে না ওপাশে কেউ আছে । থাকলেও হয়তোবা সে আর আমার সাথে কথা বলতে চায় না । আমি সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম । ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । সেই আলোতে শরীরের সব কটি শিরা-উপশিরা আমি উপলব্ধি করতে পারি । আমার রক্ত সঞ্চালন কি থেমে গিয়েছে ? এই মুহূর্তে নিজেকে কেন জানি অদ্ভুত মনে হচ্ছে আমার । কেন জানি মনে হচ্ছে এই আমিটা আমি না । হয়তোবা অন্য কেউ । আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । যা পেলাম তা হলো বিশাল অন্ধকার । কিছুক্ষণ আগের আকাশ ফাটা আলোর ঝলকানিটাও এখন চোখে পরে না । আমি ডাকতে লাগলাম । রিমি তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
এইতো আমি এখানে । আমি আরেক বার চমকিয়ে উঠি । কোথায় তুমি রিমি ? এই যে তোমার পাশে । অন্ধকারে পাশ ফিরি আমি । কোথাও কিছু চোখে পরে না !
.
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমি কোন এক ঘোরের মধ্যে বাস করছি । হয়তোবা এটা কোন দুঃস্বপ্ন । কিছুক্ষণ পরেই আমি জেগে উঠবো । আর এক ঝলক হাসি দিয়ে বলবো জানো রিমি স্বপ্নটা কি ভয়ংকরই না ছিল । হঠাৎ এক দমকা হাওয়া বয়ে যেতে লাগলো । অযুত লক্ষ নিযুত কটি স্বপ্ন আমাকে ধিক্কার দিতে লাগলো । কে তুমি কে তুমি ? এই অন্ধকার জগতে কিভাবে এলে ? মুহূর্তেই আমি অসহায় হয়ে পরি । চিৎকারে আমার কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম । কোথায় রিমি ? আমি আবার ডাকতে থাকি। তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
চারিদিক শূন্যতা বাড়তে থাকে । আমি আর সামনে যাওয়ার সাহস পাই না । আমি পিছনে ফিরে আসি । অদূরে আলো দেখা যায় । জীবনের কতো প্রতীক্ষিত আলো ! বৃষ্টির তেজ এখন কমেছে । আগের সেই দমকা হাওয়াটা আর গায়ে লাগছে না । সামনে কতো মানুষ । আমি এগিয়ে চলি । সবাই কি জানি দেখছে । ওইতো কিছু পরিচিত মানুষ ! কিন্তু ওভাবে কি দেখে ? ভিড়ের মধ্যে আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । কারো স্পর্শই আমাকে আর ছুঁয়ে যায় না । মুহূর্তেই আমি অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি । তাহলে এই আমিটা কে ?