Saturday, June 18, 2016

ধরো, তোমার চোখে পানির লাইন নষ্ট হয়ে গেলো । মানে তুমি কান্না করলেও পানি বের হচ্ছে না । বিরাট মুশকিল ! পেয়াজ চোখের সামনে ঘষাঘষি করেও একফোঁটা পানি আসার লক্ষণ নেই । নিশ্চয় তখন নিজের চোখ পরিবর্তন করতে চাইবে ! তোমার ওই পানি ছাড়া চোখজোড়া তখন আর আবেগে নাড়া দেবে না । তুমি কি জানো তোমার অনেক বড় হাতিয়ার হচ্ছে তোমার দু'টি চোখ । পানি ছাড়া সেই চোখ যেন অনেকটা গুলি ছাড়া রাইফেলের মতো ! শুধুমাত্র সেই পানি দিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা তোমার আছে । আমি নিশ্চিত তোমার চোখের কয়েক ফোঁটা পানি আমার হৃদয়কে ঝাঁঝরা করে দিতে পারবে ! কিন্তু সেই চোখের পানিই যদি হারিয়ে যায় তখন কি হবে ? তোমার দাবী আবদার কিছুই মিটবে না । ঝগড়াতেও হেরে যাবা । মেয়ে তুমি যুক্তি বোঝো না । চোখের পানি দিয়েই অস্কার পেতে চাও !

ডায়েরী থেকে

তুমি কি সত্যি ভালো আছো ? তোমার ওই এক ঝলক মিথ্যে হাসি আমার চোখে ধরা পড়ে । আচ্ছা আমি যদি বলি তুমি কেন ভালো নেই ? তুমি কি বলবে আমাকে হারিয়েছো তাই । ধুর ! তুমি আবারো মিথ্যে বলো । আমি কখনো তোমার অস্তিত্বে ছিলাম না । আমি ছিলাম তোমার বিশ্বাস । যতদিন বিশ্বাস ছিল আমি ছিলাম । তুমি আমাকে অবিশ্বাস করেছো আর আমিও হারিয়ে গেলাম !
.
আমি প্রায় ভাবি মানুষগুলো ভালো নেই কেন ? তুমি কেন ভালো নেই ? আজ থেকে কয়েক বছর আগেও তো তুমি ভালো ছিলে । তখন তোমার কি ছিল যা এখন নেই । তুমি ছোট ছিলে , তোমার মাঝে ছেলেমানুষি ছিল । তুমি হাসতে পারতে । হ্যাঁ খুব অকারণেই হাসতে । হয়তোবা সেদিনও তোমার হাসিতে কতো ছেলের বুকে মোচর দিয়েছিল !
.
তুমি বলবে চাইলেই কি হাসা যায় ? আমি হাসবো ! বলবো রাস্তায় একবার বেড়িয়ে দেখো । তোমার চারপাশে হাজারো মানুষ খুঁজে পাবে যারা একমুঠো খাবারের জন্য জীবন যুদ্ধে নেমেছে । কেউ কুড়িয়েছে কোকা-কোলার খোলা বোতল কেউবা আবার ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া পচা খাবার গুলো । কেউ আবার রিকশায় মানুষ টানার জন্য নিজের শক্ত পা দুটোকে কাজে লাগিয়েছে । অথবা কেউ নিজের অলস হাতে থালা রেখে ঘুরছে মানুষের দ্বারে দ্বারে ! জানি মানুষগুলো ভালো নেই । তুমি তো তাদের চেয়ে অনেক ভালো আছো । পৃথিবীতে সবাই একসাথে ভালো থাকতে পারবে না । পৃথিবী অবিরাম সুখের জায়গা না । কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছো পথ শিশুরাও হাসতে পারে । কারণ তারা জীবনের জটিলতা বোঝে না । তুমি বুঝতে শিখেছো তাই তোমার কাছে জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে !
.
ভালো তুমি চাইলেই থাকতে পারো । ভালো থাকার জন্য গাড়ি-বাড়ি লাগে না । চোখ ভরা স্বপ্ন দিয়ে ভবিষ্যৎ দেখা লাগে না । লাগবে তোমার মুখের একটু হাসি । যে হাসিতে কোন মিথ্যে নেই ! তুমি হাসলে সেই হাসির কাছে হতাশা আসতেও পারবে । তুমি হাসো ! কারণে অকারণে তুমি হাসো । দেখবে তুমি তুমি ভালো আছো । 
.
মেহেদী হাসান মিহি
০২/০৬/২০১৬

বাবা


বাবা কোথায় তুমি 
আজ যে তোমার ছেলের জন্মদিন ! 
ফিরে এসো না আরেকবার 
নিয়ে যাও না ‌হাতটা ধরে
নতুন কোন এক দূর আকাশে
যেখানে থাকবো তুমি আর আমি
আর থাকবে আমার মা
নতুন এক পৃথিবী দেখবো আমি
বাবা ফিরে কেন এসো না !

পিচ্চি-পাচ্চির প্রেম



বিকেল হলে ফড়িং ধরার জন্য বেড়িয়ে পড়তাম আমি ।
একদিন খেয়াল করলাম আমার পাশে আম কুড়চ্ছ তুমি ।
আমি ক্রাশ খেয়ে গেলাম ।
ভেবেছিলাম প্রেম করার মতো কাউকে তো পেলাম ।

তারপর একদিন তোমারে দেখার জন্য গিয়েছিলাম তোমাদের বাড়ি ।
তোমার হিটলার বাপ আমারে দিয়েছিল চিল্লায় একখান ঝাড়ি ।
তোমারে সেদিন দেখেছিলাম হাফ প্যান্ট পড়া উপড়ে ছিল ফ্রক ,
বসে বসে খেলতে ছিলাম আমি চায়না মোবাইলে কোক ।

স্কুলে যাওয়ার পথে একদিন শখ করে হাত ধরেছিলাম তোমার ,
তুমি ঠাস করে বাম গালে একটা চড় দিয়েছিলে আমার ।
কেঁদে কদে বলেছিলাম , ওই ছেরি ভালোবাসা দে !!
রক্তবর্ণের দুটি চোখ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল অপলক দৃষ্টিতে ।

কি বলেছিলে মনে আছে ?
বলেছিলে , তোমার বফ আছে !

নির্দোষ তুমি

আমি তাকে ভুলতে চেয়েছি ! কিন্তু পারি নি ।
আমি চেষ্টা করেছি , সবটুকু দিয়ে আমি চেষ্টা করেছি ।
আমি পারি নি ।
.
আমার জীবনে পারিনি-পাইনি এরকম অনেক অনেক শব্দই আছে ।
চলার পথে ক্লান্ত আমি যখন তার হাতটা ধরে বাঁচতে চেয়েছি ।
তখন তো সেই হাতটা খুঁজে পাই নি !
তারপরও কি আমি থেমেছি ? হয়তোবা না !
নিজের স্বপ্নগুলো যখন একের পর এক ভেঙে যেতে দেখেছি
আমি কি স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছি ?
ধুর ! ধুয়া টেনে প্রশান্তির এক ঘুম দিয়েছি ।
.
আমি হৃদয় আকাশে রঙিন পাখির মতো তোমাকে উড়তে দেখেছি ।
সেটা কি কখনো ধরতে চেয়েছি ? না কখনো না ।
শুধু তো দূর থেকে আমি একটু দেখতে চেয়েছি ।
তারপরেও কেন পাখি তুমি মেঘের আড়ালে হারিয়ে গেলে ?
তাহলে কি ধরে নেবো মেঘ তুমি আমার শত্রু ছিলে !
.
হাইরে আমি ! শুধু ভালোবাসা দিয়েছি তোমাকে ।
তোমার দোষগুলো আড়াল করে নির্দোষ মেঘটাকেই ধিক্কার দিয়েছি ।
অথচ তুমিও জানো আমিও জানি দোষগুলো কার ?
আকাশটার দিকে তাকিয়ে ভাবি সব দোষ আমার ।

চড়ুই পাখি

মাথাটা কেমন জানি ঝিম ঝিম করছে আমার । ঘুম আসার কোন এক অগ্রিম বার্তা আমাকে সে জানিয়ে দিতে চাইছে । আমি ঘুমাতে চাচ্ছি না । ক্ষণিকের মৃত্যুর কোন দরকার নেই এখন । আজ আমার জেগে থাকতে মন চাচ্ছে । রাতের অন্ধকারে ভালো লাগার এক অনুভূতি আছে । যা দিনের আলোয় কখনো খুঁজে পাওয়া যায় না । চোখ বন্ধ করে চাঁদটার দিকে তাকিয়ে আছি আমি । চাঁদের সেই আপছা আলোর সাথে আমার চোখের আপছা অন্ধকার দুইয়ে মিলে সৃষ্টি করেছে এক অদ্ভুত আলো অন্ধকার । দেখতে এতোটাই সুন্দর যেন লিখে তা প্রকাশ করে সম্ভব না । সেটা শুধু মাত্র অনুভূতির বিষয় । পৃথিবীর কোন কাব্যিক ভাষাতেও তা প্রকাশ করা যাবে না । চোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসতে চাইছে আমার । মনে হচ্ছে আজ আমার চোখের কাছে আমার মনের ইচ্ছে একেবারে মূল্যহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
-এই তুমি কি ঘুমিয়ে পরেছো ?
-হুম ।
-তাহলে কথা বলছো কিভাবে ?
-ঘুম আর জেগে থাকার মাঝামাঝি কোন এক পর্যায়ে আছি । তুমি কি আমাকে কিছু বলবে ?
-হুম বলবো ।
-ঠিক আছে বলো ।
-তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ?
-আমি জানি না ।
-আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো । তাহলে কখনো মুখে বলো না কেন ?
-ভালোবাসা মুখে বলার জিনিস না । ভালোবাসা তো অনুভূতির বিষয় ।
-এই শোন ?
-বলো আমি শুনছি ।
-আমাদের ঘরে না খুব তাড়াতাড়ি একটা নতুন অতিথি আসবে ।
খুশিতে লাফিয়ে উঠতে মন চাচ্ছে আমার । কিন্তু এই মুহূর্তে আমার পক্ষে সেটা সম্ভব না । ঘুমে চোখ জড়িয়ে যাচ্ছে । আমি চেষ্টা করলেও তা পারি না ।
-তুমি খুশি হও নি
-হুম হয়েছি । তবে এক সাথে দুইজন আসলে আরও বেশী খুশি হবো । নাম রেখে দেবো রিনি মিনি । তোমার আমার দুইজনের নামের সাথে মিল রেখে ।
কোন এক বাস্তবতায় স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে আমার । তাই তো বলি আমি আবার বিয়ে করলাম কবে ? আমি হাসতে লাগলাম । স্বপ্নগুলো কেমন জানি অদ্ভুত । জীবনের অনেক আগাম ভবিষ্যৎ দেখাতে পারে সেগুলো । ওটা আমার কল্পনা না । আমার আর ওর আগামী দিনের স্বপ্নের মায়াজাল । শুধু মাত্র সেই স্বপ্ন দেখার জন্যই সারাজীবন ঘুমিয়ে থাকতে পারবো আমি । বিশ্বাস করো আমার একটুও ক্লান্ত লাগবে না ।
রাত গভীর হচ্ছে । সেই সাথে বাড়ছে নীরবতার । হয়তোবা তারা গুলো মিশে গেছে দুর আকাশের অন্ধকারে । একা আমি বসে আছি কারো অপেক্ষায় । কেন জানি জানালাটা খুলতেও ভয় পাচ্ছি । দুরের আলোগুলো যদি আমার ঘরে এসে পড়ে ।
ঘুম থেকে উঠে মস্তিষ্ক ফাকা ফাকা লাগছে আমার । কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম তাও অনুমান করতে পারছি না । খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছি ঝিঝি পোকার ডাকগুলো । তার মানে সকাল হতে এখনো অনেক বাকি । সকালের দিকে তো পোকাগুলো ঘুমিয়ে পরে । আমার রুমটা অন্ধকার । ডিপ লাইটের আলোতে ঘুম আসতে চায় না । আমি জানি আমার চোখে আলো সহ্য হবে না । তাই তো আমি মৃদু আলোতেই চলাফেরা করি । কেন জানি কালো আকাশের নিচের হাটতে মন চাচ্ছে । হয়তোবা হারিয়ে যেতে চাচ্ছি রাতের অন্ধকারে ।
মনে হচ্ছে কোন এক অন্ধকারের সাগরে হাঁটছি আমি । ভাবছিলাম আকাশের চাঁদটা আমার সাথে থাকবে । কিন্তু না , আমার চারিদিকে আছে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার । কোন এক অন্ধকারে আমি ডুবে আছি । পাশে সঙ্গী হিসেবে কাওকে খুঁজে পাচ্ছি না । জীবনের সেই অন্ধকারের মাঝেও আমি স্বপ্ন দেখি । শুধু তোমাকে ভালোবেসে !

মৃত্যুহীন

আমার বেশির ভাগ লেখাই আমার কল্পনা থেকে নেয়া । আমি যা কল্পনা করি তাই লিখি । আমার কল্পনাতে আমার এক প্রকার বিশ্বাস লুকিয়ে আছে । সেই বিশ্বাসের হাত ধরেই আমি লিখতে পারি অবিরাম ।
অধরা ভেবেছিল বিবাহিত জীবনে ও খুব সুখী হবে । বিবাহিত জীবনেও আমি ছিলাম প্রায় একা । ওকে খুব বেশি সময় দেয়া হতো না । সারাদিন অদ্ভুত সব চিন্তা ভাবনা আমার মাথায় ঘুরতে থাকতো । আমি সেসব নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম । বুঝতে পারতাম ও আমাকে খুব ভালোবাসে । কখনো বুঝতে দিত না ওর মনের কষ্টগুলো । কারো কষ্ট বোঝার ক্ষমতা আমি হারিয়েছি অনেক আগেই । আমার নিজের কাছে কষ্ট আর সুখের অনুভুতি একই রকম মনে হয় । কখনো দুইটার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য খুজে পাই নি । মৃত্যু সব সময়ই রহস্যজনক লেগেছে আমার । মৃত্যু মানে কি জীবনের শুরু নাকি শেষ ? কেন জানি মনে হচ্ছে খুব বেশী মৃত্যু নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি মনে হয় মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে এসেছি । অধরা আমাকে বলেছিল ও আমার জন্য হাসিমুখে মরতেও পারবে । আমি সেরকমই চাচ্ছিলাম । পরিকল্পনটা ছিল আমার । ও আমার সামনে মারা যাবে । আর আমি মৃত্যু দেখবো । খেয়াল রাখতে হবে ওর যেন কোন কষ্ট না হয় । আমি যে ওকে ভালোবাসি । ওর কষ্ট কি আমি সহ্য করতে পারি ? তাই তো রাতের খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছি আমি ।
-খেতে এসো ?
-তুমি খাবে না ?
-না আমার খিদে নেই । তুমি আমার সামনে খাও। আর আমি তোমাকে মন ভরে দেখি ।
-তাই বুঝি । তা আজ হঠ্যাৎ বউয়ের উপর এতো ভালোবাসা ?
-এমনিতেই । তোমাকে একটা কথা বলবো ?
-কথা বলবে এতে অনুমতি নেয়ার কি আছে । বলো কি বলবে ?
-তুমি কি আমার জন্য সত্যি মরতে পারবে ?
ওর মুখটা এখনো হাসিতে ভরা । সেই হাসির অর্থ আমি জানি । ওকে যে আমি ভালোবাসি । হয়তোবা খুব বেশি । ও কি জানে যে ও আর কিছুক্ষণ পর মারা যাবে ? ভালোবাসার মানুষটাই যাকে আজ নিজ হাতে মেরে ফেলবে । একজন মানুষের কাছে এর চেয়ে সুখের আর কি হতে পারে ।
আচ্ছা আমি কি পাগল হয়ে গিয়েছি ? এতে পাগলামির কি হলো ? আমার ভালোবাসার মানুষ কে আমি মারবো কাটবো যা খুশি করবো সেটা আমার ইচ্ছা । সেক্ষেত্রে তো আমাকে পাগল ভাবার কিছু নেই । আমার মস্তিষ্ক এখনো সুস্থ !
-আমার সাথে এমন করলে কেন তুমি ?
-আমি যে তোমাকে খুব ভালোবাসি ।
-তুমি একটা পাগল ।
-হয়তোবা সেটা তোমার ভালবাসায় ।
-জানো তো আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ।
-আর একটু কষ্ট করো । কিছুক্ষণ পরেই তো তুমি চলে যাবে অন্য কোথাও । আমি সেটা দেখবো ।
-তুমি কখনো সেটা দেখতে পারবে না । তুমি কখনো তোমার ইচ্ছাতে মৃত্যু দেখতে পারবে না ।
মাথাটা কেমন জানি ব্যথা করছে কথাগুলো শোনার পর থেকে । কতো ভালবাসতাম । আর আজ নিমেষেই সব শেষ । অবাক লাগছে আমার । ওর শেষ কথাগুলো কি সত্য ? নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছে না আমার । হবেই বা কেন ? আমার বিশ্বাসটাকে আজ হারিয়েছে অন্য কোন কিছুর মাঝে । বুঝতে পারছি না এই মুহূর্তে আমার কি করা উচিত । আমি কি আজ পরাজিত ? আমি কি কখনো মৃত্যু দেখতে পারবো না ? জীবনের কোন এক ভুল সিদ্ধান্ত আমায় বার বার ডাকছে । মধ্যরাত হতে আর বেশি বাকি নেই । প্রকৃতি খুব বেশী অন্ধকার হলেই হয়তোবা তলিয়ে যাবো দুর কোন অজানায় । চিরতরে ঘুমিয়ে পরবো কোন এক অন্ধকারে । যেখানে থাকবে না পাখিদের কোন কোলাহল । থাকবেনা মানুষের কোন মায়াজাল । থাকবে শুধু অসীম এক অদেখা । আমি দেখবো সেই অদেখা গুলোকে অপলক দৃষ্টিতে । হারিয়ে যাবো আমার কল্পনায় বার বার।
দড়িটার দিকে তাকিয়ে আছি আমি । খুব সাধারণ একটা দড়ি । অথচ ক্ষমতা কতোটা অসাধারণ । এটাই পারে আমাকে মৃত্যু দেখাতে । আমার গোলায় কি দড়িটা খুব মানাবে ? বুঝতে পারছি এই মুহূর্তে আমি যা করতে যাচ্ছি সেটা পাগলামি ছাড়া আর কিছু না । আমি ছাড়া বাকি সবাই হয়তোবা আমাকে ভাববে আমি পাগল , আমি উন্মাদ । অবাক লাগছে আমার । আর কিছুক্ষণ পর আমি মারা যাবো । হয়তোবা হারিয়ে যাবো গহীন কোন অন্ধকারে । আমার চারপাশে থাকবে শুধু অন্ধকার আর আমি তলিয়ে যাবো সেই অন্ধকারের আড়ালে । কেউ আমাকে খুঁজেও পাবে না ।
“ আমি শূন্যে দাড়িয়ে আছি । আমার চারপাশে রয়েছে শুধু আমার অতীতগুলো । জীবনের সমস্ত অন্যায় অবিচার ধিক্কার দিচ্ছে আমাকে । আমি যে আজ মৃত্যু দেখতে চাই । কিন্তু একি আমার মৃত্যু কোথায় ? বুঝতে পারছি আমি এখন জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা অবস্থানে অবস্থান করছি । যেখানে সময় বলে হয়তোবা কিছু নেই । তারমানে কি ? এই জীবনের শেষ কোথায় আমার ? আমি তো জানতাম জীবনের পরই মৃত্যু শুরু কিন্তু তার মাঝখানেও যে রয়েছে আরেক জীবনের বিশাল এক পর্ব । যেখানে রয়েছে শুধু অতীতের ভুলগুলো আর সেসব ভুলের অনুশোচনা ’’