আজকের রাতটা অন্ধকার । এই অন্ধকারে নিজের শরীরও নিজের কাছ থেকে পালিয়ে থাকে । সন্ধ্যা থেকেই অঝরে বৃষ্টি পড়ছে । আজ রাতেই আমি সম্ভবত মারা যাবো ! কোন এক শুভ অথবা অশুভ শক্তি সেটা আমাকে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে । আমি সেটা নিয়ে ভাবছি না । আমি ভাবছি রিমির কথা । ও কখন আসবে ? আমি যে একটু ঘুমবো ওর কোলে মাথা রেখে । কতো রাত ঘুমাই না আমি !
.
রিমির আসার কথা ছিল । আমি জানি ও আর আসবে না । আমাকে আর কখনো বলবে না ভালোবাসি ! আমার কেন জানি দুশ্চিন্তা হচ্ছে । অবশ্য এই চিন্তার জন্যই মনের মধ্যে আলাদা এক প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে । কেননা আমি যা ভাবি তা কখনো হয় না । অনেকটা বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মতো । আমার ফোন বাজতে লাগলো । আমি ফোন রিসিভ করলাম ।
.
-হ্যালো
-হ্যালো । রিমি কোথায় তুমি ?
-আমি অচেনা কোথাও এসে পরেছি । তুমি কি এখানে আসতে পারবে ?
-ঠিকানা না বললে আমি কিভাবে যাবো ?
-আমি সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি । তুমি আসতে পারবে কিনা বলো ?
-পারবো ।
-জায়গাটা কিন্তু খুব রহস্যে ঘেরা ।
-আমার তাতে কোন অসুবিধা নেই ।
.
কোন রহস্য খুঁজে বের করার ইচ্ছা আমার কখনোই হয় নি । জগতের সব কিছুতেই আছে এক নিখুঁত রহস্য । অনেক হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকে এক রহস্য আবার কন্নার পিছনেও লুকিয়ে থাকে রহস্য । আমার তো মনে হয় আমরা সবাই রহস্যের এক মায়াজালেই আবদ্ধ !
.
আমি বের হলাম । এতো বৃষ্টি যে বাহিরে আমি ব্যতীত অন্য কোন প্রাণী আর দ্বিতীয়টি চোখে পড়লো না । কি করবো কিছুই বুঝতেছি না । রিমিকেও ফোন দিচ্ছি । মনে হচ্ছে না ওপাশে কেউ আছে । থাকলেও হয়তোবা সে আর আমার সাথে কথা বলতে চায় না । আমি সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম । ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । সেই আলোতে শরীরের সব কটি শিরা-উপশিরা আমি উপলব্ধি করতে পারি । আমার রক্ত সঞ্চালন কি থেমে গিয়েছে ? এই মুহূর্তে নিজেকে কেন জানি অদ্ভুত মনে হচ্ছে আমার । কেন জানি মনে হচ্ছে এই আমিটা আমি না । হয়তোবা অন্য কেউ । আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । যা পেলাম তা হলো বিশাল অন্ধকার । কিছুক্ষণ আগের আকাশ ফাটা আলোর ঝলকানিটাও এখন চোখে পরে না । আমি ডাকতে লাগলাম । রিমি তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
এইতো আমি এখানে । আমি আরেক বার চমকিয়ে উঠি । কোথায় তুমি রিমি ? এই যে তোমার পাশে । অন্ধকারে পাশ ফিরি আমি । কোথাও কিছু চোখে পরে না !
.
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমি কোন এক ঘোরের মধ্যে বাস করছি । হয়তোবা এটা কোন দুঃস্বপ্ন । কিছুক্ষণ পরেই আমি জেগে উঠবো । আর এক ঝলক হাসি দিয়ে বলবো জানো রিমি স্বপ্নটা কি ভয়ংকরই না ছিল । হঠাৎ এক দমকা হাওয়া বয়ে যেতে লাগলো । অযুত লক্ষ নিযুত কটি স্বপ্ন আমাকে ধিক্কার দিতে লাগলো । কে তুমি কে তুমি ? এই অন্ধকার জগতে কিভাবে এলে ? মুহূর্তেই আমি অসহায় হয়ে পরি । চিৎকারে আমার কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম । কোথায় রিমি ? আমি আবার ডাকতে থাকি। তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
চারিদিক শূন্যতা বাড়তে থাকে । আমি আর সামনে যাওয়ার সাহস পাই না । আমি পিছনে ফিরে আসি । অদূরে আলো দেখা যায় । জীবনের কতো প্রতীক্ষিত আলো ! বৃষ্টির তেজ এখন কমেছে । আগের সেই দমকা হাওয়াটা আর গায়ে লাগছে না । সামনে কতো মানুষ । আমি এগিয়ে চলি । সবাই কি জানি দেখছে । ওইতো কিছু পরিচিত মানুষ ! কিন্তু ওভাবে কি দেখে ? ভিড়ের মধ্যে আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । কারো স্পর্শই আমাকে আর ছুঁয়ে যায় না । মুহূর্তেই আমি অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি । তাহলে এই আমিটা কে ?
.
.
রিমির আসার কথা ছিল । আমি জানি ও আর আসবে না । আমাকে আর কখনো বলবে না ভালোবাসি ! আমার কেন জানি দুশ্চিন্তা হচ্ছে । অবশ্য এই চিন্তার জন্যই মনের মধ্যে আলাদা এক প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে । কেননা আমি যা ভাবি তা কখনো হয় না । অনেকটা বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মতো । আমার ফোন বাজতে লাগলো । আমি ফোন রিসিভ করলাম ।
.
-হ্যালো
-হ্যালো । রিমি কোথায় তুমি ?
-আমি অচেনা কোথাও এসে পরেছি । তুমি কি এখানে আসতে পারবে ?
-ঠিকানা না বললে আমি কিভাবে যাবো ?
-আমি সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি । তুমি আসতে পারবে কিনা বলো ?
-পারবো ।
-জায়গাটা কিন্তু খুব রহস্যে ঘেরা ।
-আমার তাতে কোন অসুবিধা নেই ।
.
কোন রহস্য খুঁজে বের করার ইচ্ছা আমার কখনোই হয় নি । জগতের সব কিছুতেই আছে এক নিখুঁত রহস্য । অনেক হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকে এক রহস্য আবার কন্নার পিছনেও লুকিয়ে থাকে রহস্য । আমার তো মনে হয় আমরা সবাই রহস্যের এক মায়াজালেই আবদ্ধ !
.
আমি বের হলাম । এতো বৃষ্টি যে বাহিরে আমি ব্যতীত অন্য কোন প্রাণী আর দ্বিতীয়টি চোখে পড়লো না । কি করবো কিছুই বুঝতেছি না । রিমিকেও ফোন দিচ্ছি । মনে হচ্ছে না ওপাশে কেউ আছে । থাকলেও হয়তোবা সে আর আমার সাথে কথা বলতে চায় না । আমি সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম । ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । সেই আলোতে শরীরের সব কটি শিরা-উপশিরা আমি উপলব্ধি করতে পারি । আমার রক্ত সঞ্চালন কি থেমে গিয়েছে ? এই মুহূর্তে নিজেকে কেন জানি অদ্ভুত মনে হচ্ছে আমার । কেন জানি মনে হচ্ছে এই আমিটা আমি না । হয়তোবা অন্য কেউ । আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । যা পেলাম তা হলো বিশাল অন্ধকার । কিছুক্ষণ আগের আকাশ ফাটা আলোর ঝলকানিটাও এখন চোখে পরে না । আমি ডাকতে লাগলাম । রিমি তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
এইতো আমি এখানে । আমি আরেক বার চমকিয়ে উঠি । কোথায় তুমি রিমি ? এই যে তোমার পাশে । অন্ধকারে পাশ ফিরি আমি । কোথাও কিছু চোখে পরে না !
.
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমি কোন এক ঘোরের মধ্যে বাস করছি । হয়তোবা এটা কোন দুঃস্বপ্ন । কিছুক্ষণ পরেই আমি জেগে উঠবো । আর এক ঝলক হাসি দিয়ে বলবো জানো রিমি স্বপ্নটা কি ভয়ংকরই না ছিল । হঠাৎ এক দমকা হাওয়া বয়ে যেতে লাগলো । অযুত লক্ষ নিযুত কটি স্বপ্ন আমাকে ধিক্কার দিতে লাগলো । কে তুমি কে তুমি ? এই অন্ধকার জগতে কিভাবে এলে ? মুহূর্তেই আমি অসহায় হয়ে পরি । চিৎকারে আমার কান ফেটে যাওয়ার উপক্রম । কোথায় রিমি ? আমি আবার ডাকতে থাকি। তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছো ? কোথাও কি তুমি আছো ?
.
চারিদিক শূন্যতা বাড়তে থাকে । আমি আর সামনে যাওয়ার সাহস পাই না । আমি পিছনে ফিরে আসি । অদূরে আলো দেখা যায় । জীবনের কতো প্রতীক্ষিত আলো ! বৃষ্টির তেজ এখন কমেছে । আগের সেই দমকা হাওয়াটা আর গায়ে লাগছে না । সামনে কতো মানুষ । আমি এগিয়ে চলি । সবাই কি জানি দেখছে । ওইতো কিছু পরিচিত মানুষ ! কিন্তু ওভাবে কি দেখে ? ভিড়ের মধ্যে আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম । কারো স্পর্শই আমাকে আর ছুঁয়ে যায় না । মুহূর্তেই আমি অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি । তাহলে এই আমিটা কে ?
.
মেহেদী হাসান মিহি
১৩.১০.২০১৫
১৩.১০.২০১৫
No comments:
Post a Comment